নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দিতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিদেশি দাতাদের সহযোগিতায় ব্যাপক পরিসরে কুরবানি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে মানবিক ও সামাজিক সংগঠন ‘ছওয়াব’।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে হাজার হাজার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও খাদ্যসংকটে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে কুরবানির গোশত বিতরণ করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এনজিও সেল এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, চলতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও বিদেশি ডোনারদের আর্থিক সহায়তায় ছওয়াব এ মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু কুরবানি সম্পন্ন করা হয় এবং পরবর্তীতে উপকারভোগীদের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে গোশত বিতরণ করা হয়।

এবারের কুরবানি কার্যক্রম কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩, ৯, ১৪, ১৮, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭-এ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি হোস্ট কমিউনিটির অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর মাঝেও কুরবানির গোশত বিতরণ করা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থা, কক্সবাজার, পালংখালী ইউনিয়নের হোস্ট কমিউনিটি এবং উখিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও কুরবানির গোশত বিতরণ করা হয়েছে।

ছওয়াবের প্রতিনিধিরা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকট, খাদ্য ঘাটতি ও সীমিত জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ছওয়াবের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্বের অংশ। বিদেশি দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় আমরা বৃহৎ পরিসরে কুরবানি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ছওয়াব শুধু কুরবানি নয়, সারা বছর বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমাদের লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো।”

উল্লেখ্য, সকল কুরবানি কার্যক্রম দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, আরআরআরসি এবং সিআইসি কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ছওয়াবের চেয়ারম্যান বলেন, “মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিদেশি দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত অসহায় মানুষদের কাছে কুরবানির গোশত পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও মানবকল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছওয়াব সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশব্যাপী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কুরবানি ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন ছওয়াবের মনিটরিং টিম। পাশাপাশি ক্যাম্প প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গোশত বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সহায়তা পান।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শুধু ঈদকেন্দ্রিক সহায়তা নয়, ছওয়াব দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বছরজুড়ে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিদেশি দাতারাও সংগঠনটির স্বচ্ছতা, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে কুরবানির গোশত পেয়ে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করে ছওয়াব ও দাতাদের জন্য দোয়া করেন। অনেকেই জানান, সীমিত আয়ের কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় তারা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত থাকেন। ঈদের এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে এনেছে।

মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও আন্তর্জাতিক মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ছওয়াবের এ উদ্যোগ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।